রাজধানীতে নিহত করোনা রোগীর সব চিকিৎসকই কোয়ারেন্টাইনে

নিজস্ব সংবাদদাতা, ঢাকা; রাজধানীর আরও একটি হাসপাতালের চিকিৎসকরা স্বেচ্ছায় কোয়ারেন্টিনে গিয়েছেন। ওই হাসপাতালে গত রবিবার এক রোগী মারা যাওয়ার পর পরীক্ষা করে তার শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি ছিল বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত হবার পরই ওই রোগীর চিকিৎসা করা সব ডাক্তাররা কোয়ারেন্টিনে চলে গেছেন।

ঐ হাসপাতালটির একজন পরিচালক আজ মঙ্গলবার (২৪ মার্চ ২০২০) গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ওই রোগী গত মাসের ২৬ ফেব্রুয়ারি জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালের একটি কেবিনে ভর্তি ছিলেন। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করার পর ২২ মার্চ তিনি মারা যান।’

‘তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এসেছিলেন নাকি হাসপাতালে এসে আক্রান্ত হন, সে সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ’ বলছিলেন হাসপাতালটির একজন পরিচালক।

হাসপাতাওল সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সোমবার রাতে মৃত ওই ব্যক্তির পাঠানো নমুনার ফল হাতে পায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সেখানে দেখা যায়, ওই রোগী কোভিট-১৯ পজিটিভ ছিলেন। এরপর আজ মঙ্গলবার থেকেই ও ই রোগীর চিকিৎসায় যারা ছিলেন, তারা কোয়ারেন্টিনে গেছেন।

এর আগে মিরপুরের টোলারবাগের এক রোগী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর ডেল্টা হাসপাতালে মারা যান। তারপর থেকে ওই হাসপাতালের চিকিৎসকদের একটি বড় অংশও কোয়ারেন্টিনে আছেন।

উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাপী দাবানলের মত ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস। এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত বিশ্বের প্রতিটি দেশেই যেন বিদ্যুতের গতিতে এ ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ছে। বাংলাদেশের লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে এর সংখ্যা। সাথে লাশের মিছিলও হচ্ছে বড়।  দেশে করোনাভাইরাসে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এতে ভাইরাসটিতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চারজনে। নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ৬ জন। এতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৯ জনে।

আজ মঙ্গলবার (২৪ মার্চ ২০২০) বিকেলে করোনাভাইরাস সংক্রান্ত অনলাইন লাইভ ব্রিফিংয়ে রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা এ তথ্য জানান।

বাংলাদেশে এ ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে গত ৮ মার্চ। এরপর দিন দিন এ ভাইরাসে সংক্রমণের সংখ্যা বেড়েছে। সর্বশেষ হিসাবে দেশে এখন পর্যন্ত ৩৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন, মারা গেছেন চারজন।

করোনার বিস্তাররোধে এরই মধ্যে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে সভা-সমাবেশ ও গণজমায়েতের ওপর। চারটি দেশ ও অঞ্চল ছাড়া সব দেশ থেকেই যাত্রী আসা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

বন্ধ করে দেয়া হয়েছে দেশের সব বিপণিবিতান। এছাড়া মুলতবি করা হয়েছে জামিন ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি ছাড়া নিম্ন আদালতের বিচারিক কাজ। এমনকি মাদারীপুরের শিবচর উপজেলাকে লকডাউনও ঘোষণা করা হয়েছে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণরোধে আগামী ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের সরকারি-বেসরকারি সব ধরনের প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বাস, ট্রেন, লঞ্চসহ সব ধরনের গণপরিবহন। এ কার্যক্রমে স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তার জন্য দেশের সব জেলায় মোতায়েন করা হয়েছে সশস্ত্র বাহিনী।

আমাদের বাণী ডট কম/২৪ মার্চ ২০২০/টিএ

About আমাদের বাণী

Check Also

গাজায় ইসরাইলের আগ্রাসন, নিহত বেড়ে ১৪৩

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় আজ শনিবার সকালেও বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। গাজা থেকে হামাসও ইসরায়েলে রকেট …