দেশে সাড়ে পাঁচ লাখ নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত লাখ ছাড়াল

নিজস্ব সংবাদদাতা, ঢাকা; গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩৮ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে মহামারি করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯)। ফলে ভাইরাসটিতে মোট ১৩৪৩  জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে করোনায় আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ৪৩হাজার ৮০৩ জন। এতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ১ লাখ ২ হাজার ২৯২ জনে।

আজ বুধবার ( ১৭ জুন ২০২০) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এর করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। কোভিড-১৯ সংক্রান্ত নিয়মিত অনলাইন স্বাস্থ্য বুলেটিনে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন)ডা. নাসিমা সুলতানা এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন,‘আমরা গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ১৭ হাজার ৩৪৯টি। আর নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১৬ হাজার ২৫৯টি। মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৫০৩টি। ২৪ ঘণ্টায় এই সংগৃহীত নমুনা থেকে শনাক্ত রোগী পেয়েছি ৩ হাজার ৮০৩ জন। এ পর্যন্ত শনাক্ত ১ লাখ ২ হাজার ২৯২ জন। শনাক্তের হার ২৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ।’

অধ্যাপক নাসিমা বলেন, ‘২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছে ১ হাজার ৯৭৫ জন। মোট সুস্থ হয়েছে ৪০ হাজার ১৬৪ জন। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৩৯ দশমিক ২৬ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণ করেছে ৩৮ জন। এ পর্যন্ত মৃত্যু দাঁড়ালো ১ হাজার ৩৪৩ জন। শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৩১ শতাংশ। মৃত্যু বিশ্লেষণে পুরুষ ৩১ জন এবং নারী ৭ জন।’

বয়স বিশ্লেষণে করে তিনি বলেন, ‘০ থেকে ১০ বছরের মধ্যে ১ জন, ২১ থেকে ৩০ বছর ২ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছর ৫ জন,  ৪১ থেকে ৫০ বছর ৩ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছর ৬ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছর ১৪ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছর ৫ জন এবং ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে ২ জন মারা গেছে।’

‘তাদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১৪ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৮ জন, রাজশাহী বিভাগে ১ জন, খুলনা বিভাগে ২ জন, বরিশাল বিভাগে ১ জন,ময়মনসিংহ বিভাগে ১ জন এবং রংপুর বিভাগে ১ জন মৃত্যুবরণ করেছে। তাদের মধ্যে হাসপাতালে ২৪ জন এবং বাসায় ১৮ জন মারা গেছে’ বলেও জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে ঘরে থাকার এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ-নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয় বুলেটিনে।

গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। এরপর প্রথম দিকে কয়েকজন করে নতুন আক্রান্ত রোগীর খবর মিললেও এখন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে এ সংখ্যা। বাড়ছে মৃত্যুও। এদিকে ক্রমেই আক্রান্ত সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও মানুষের জীবিকার তাগিদে ৮ম দফায় ছুটি না বাড়িয়ে ৩১ মে থেকে খুলে দেওয়া হয়েছে অফিস-দোকানপাট ও সীমিত পরিসরে গণপরিবহন। তবে রেড জোন চিহ্নিত করে এলাকাভিত্তিক লকডাউন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

আমাদের বাণী ডট কম/১৮  জুন ২০২০/পিপিএম 

About আমাদের বাণী

Check Also

গাজায় ইসরাইলের আগ্রাসন, নিহত বেড়ে ১৪৩

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় আজ শনিবার সকালেও বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। গাজা থেকে হামাসও ইসরায়েলে রকেট …