ঢাকায় প্রতি লাখে ৩০, জেলায় লাখে ১০ জন আক্রান্ত এলাকা হবে লকডাউন

ডেস্ক রিপোর্ট, ঢাকা;  কোভিড-১৯ তথা করোনায় সংক্রমণের কেন্দ্র বিবেচনায় এলাকাভিত্তিক লকডাউনের পথে যাচ্ছে সরকার।  ঢাকার কিছু এলাকায় ‘পাইলট ভিত্তিতে’ লকডাউন শুরু করা হবে।

  • এক্ষেত্রে কোনো এলাকায় প্রতি এক লাখ বাসিন্দার মধ্যে ৩০ জন করোনা আক্রান্ত রোগী থাকলে সেই এলাকা লকডাউনের পরামর্শ দিয়েছে মহামারী মোকাবেলায় গঠিত জাতীয় টেকনিক্যাল উপদেষ্টা কমিটি।

জানা গেছে রাজধানীতে এ তালিকায় রয়েছে, উত্তরা (৪৩৩), মুগদা  (৪২৮), মোহাম্মদপুর (৩৯৪), যাত্রাবাড়ী (৩৮৭ জন), কাকরাইল (৩০০ জন), ধানমন্ডি (২৯৪ জন), মগবাজার (২৫৫ জন), তেজগাঁও (২৫১ জন), রাজারবাগ (২২১ জন), খিলগাঁও (২১৯ জন), লালবাগ (২০৬ জন), রামপুরা (১৯৭ জন), বাড্ডা (১৯৫ জন), মালিবাগ (১৬৪ জন), গুলশান (১৬৩ জন), বাবুবাজার (১৬২ জন), গেন্ডারিয়া (১৪২ জন), ওয়ারী (১২৪ জন),  বাসাবো (১২২ জন), বংশাল (১০৯ জন) এবং আগারগাঁও (১০৮ জন)।

  • আগামীকাল রবিবার এ সংক্রান্ত বিষয়ে উপদেষ্টা কমিটির পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাবনা প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দেওয়া হবে বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। লকডাউনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।

গত ৮ মার্চ কোভিড-১৯ আক্রান্ত প্রথম রোগী শনাক্তের চার মাসের মাথায় এসে এই মহামারীর বিস্তারে বিশ্বের শীর্ষ ২০ দেশের তালিকায় বাংলাদেশ ঢুকে পড়ার পর ঝুঁকি বিবেচনায় এলাকাভিত্তিক লকডাউন করার পথে সরকার।

  • জানা গেছে, জাতীয় টেকনিক্যাল উপদেষ্টা কমিটি ঢাকার যেসব এলাকায় প্রতি এক লাখ জনগোষ্ঠীর মধ্যে ৩০ জন কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগী আছে, সেসব এলাকাকে ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করে লকডাউনের পরামর্শ দিয়েছে।

আর ঢাকার বাইরে এলাকাগুলোতে প্রতি এক লাখ বাসিন্দার মধ্যে ১০ জন কোভিড-১৯ আক্রান্ত এলাকাকে লকডাউন করার পরামর্শ রয়েছে এই কমিটির। এর চেয়ে কম আক্রান্ত রোগী থাকা এলাকাগুলোকে পর্যায়ক্রমে ‘হলুদ’ এবং ‘সবুজ’ জোনে ভাগ করা হয়েছে।

  • এর আগে শুক্রবার কক্সবাজার পৌর এলাকাকে দেশের প্রথম করোনা রেড জোন ঘোষণা দেয় স্থানীয় প্রশাসন। পৌরসভার ১০টি ওয়ার্ডকে ১০ দিনের জন্য পুরোপুরি লকডাউন করা হয়।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এর করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনের সর্বশেষ (০৬ জুন ২০২০) তথ্য অনুযায়ী,গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩৫ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে মহামারি করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯)। ফলে ভাইরাসটিতে মোট ৮৪৬  জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে করোনায় আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন দুই হাজার ৬৩৫ জন। এতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৬৩  হাজার ০২৫ জনে। নতুন করে সুস্থ্য হয়েছে  ৫২১ জন এবং মোট সুস্থ হয়েছেন ১৩৩২৫ জন।  ৫০টি ল্যাবে গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১২ হাজার ৯০৯টি এবং পরীক্ষা করা হয়েছে ১২ হাজার ৪৮৬টি। আক্রান্তের হার ২১.১০ শতাংশ।  ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৫২১ জন এবং এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১৩ হাজার ৩২৫ জন। সুস্থতার হার ২১.১৪ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১.৩৪ শতাংশ। মারা যাওয়া ব্যক্তিদের সম্পর্কে জানানো হয়, পুরুষ ২৮ জন ও নারী সাতজন। বয়স বিশ্লেষণে জানা যায়, ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে দুইজন, ২১-৩০ তিজন, ৩১-৪০ দুইজন, ৪১-৫০ তিনজন, ৫১-৬০ ১০ জন, ৬১-৭০ পাঁচজন, ৭১-৮০ ৯ জন এবং ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে একজন।

আমাদের বাণী ডট কম/০৬ জুন ২০২০/সিসিপি

About আমাদের বাণী

Check Also

গাজায় ইসরাইলের আগ্রাসন, নিহত বেড়ে ১৪৩

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় আজ শনিবার সকালেও বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। গাজা থেকে হামাসও ইসরায়েলে রকেট …