এবার ৩য়-৪র্থ শ্রেণির নিয়োগের দায়িত্বে পিএসসি

৩য়-৪র্থ শ্রেণির সরকারি চাকরির নিয়োগের দায়িত্ব পাচ্ছে  বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি)। চলতি ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের (আগের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণি) বিদ্যমান শূন্যপদ জরুরিভাবে পূরণে কমিশন গঠন করার কথা থাকলেও তা হচ্ছে না ফলে ১ম ও ২য় শ্রেণির মতো (১ম থেকে ১০ম গ্রেড) এসব পদের নিয়োগও সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।

পিএসসি’র হাতে সরকারি চাকরীর নিয়োগের সব দায়িত্ব যাওয়ার বিষয় নিশ্চিত করেছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তারা।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, পরীক্ষামূলকভাবে পিএসসির মাধ্যমে ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীদের নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে। এটি সফলভাবে করা সম্ভব হলে এই ধরনের নিয়োগ পুরোপুরি পিএসসির ওপর ন্যস্ত হবে বলে। প্রশাসনে প্রায় সব সময়ই আড়াই থেকে তিন লাখের মতো তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর পদ খালি থাকে। এসব পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে পছন্দের লোক নিয়োগ, অর্থের বিনিময়ে নিয়োগসহ প্রায়ই নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে বিদায়ী বছরের ২৭ মে সরকারি চাকরিতে বেতন কাঠামোর ১১তম গ্রেড থেকে ২০তম গ্রেডের শূন্যপদ জরুরিভাবে পূরণে কমিশন গঠন করা যায় কি-না, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য একটি কমিটি গঠন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তৎকালীন সিনিয়র সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) মো. শামসুল আরেফিনকে আট সদস্যের ওই কমিটির সভাপতি করা হয়। অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা কমিটিতে সদস্য হিসেবে ছিলেন।

৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির শূন্যপদ জরুরি ভিত্তিতে পূরণের জন্য পৃথক কমিশন গঠনের বিষয়ে বিদ্যমান বিধি-বিধান পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তিন মাসের মধ্যে কমিটিতে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়। পরে ২৯ জুন অবসরে যান শামসুল আরেফিন। নতুন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) শেখ মুজিবুর রহমান এসে প্রতিবেদনটি সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলমের কাছে জমা দেন। পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এটি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। ওই কমিটির সদস্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (সংস্কার অনুবিভাগ) সোলতান আহমদ বলেন, ‘আমরা আমাদের প্রতিবেদন মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছে জমা দিয়েছি। আমরা সেখানে বলেছি, স্কুল, কলেজ, মাদরাসার শিক্ষক নিয়োগ করে থাকে এনটিআরসিএ; তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির শূন্য পদে নিয়োগেও এমন একটি ইন্ডিপেনডেন্ট কমিশন গঠন করা যেতে পারে।’

মন্ত্রণালয় সুত্রে জানা গেছে, সরকার আলাদা কমিশন গঠনের পক্ষে নয়। পিএসসিকেই এই দায়িত্ব দিতে চায়। এজন্য এ সংক্রান্ত একটি সার-সংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছেও পাঠানো হয়। প্রধানমন্ত্রী এটি অনুমোদন দেয়ার পর এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে পিএসসিকে চিঠি পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির জন্য কমিশন করার সুপারিশ এসেছিল। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, পিএসসি এই পরীক্ষাগুলো ডিল করবে, তাদের সেই দায়িত্ব দেয়া হবে। এখন যেটা বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বুয়েটসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাকে দিয়ে করাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দেখেছি নিয়োগে একজন প্রার্থীর জন্য আড়াই লাখ টাকা ব্যয় হয়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির পদে নিয়োগ আমরা পিএসসির মাধ্যমে করব। পিএসসি ক্যাডার ও নন-ক্যাডারে যেভাবে নিয়োগ দিয়ে থাকে, একইভাবে এই নিয়োগ দেবে। তারা এজন্য আলাদা একটা উইং করবে। এভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং আগামীতে এটাই হতে যাচ্ছে।’

‘৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির নিয়োগের জন্য আলাদা কমিশন করার কোনো সিদ্ধান্ত আপাতত নেই আমাদের। পিএসসির মাধ্যমেই আমরা করতে যাচ্ছি।’ ‘প্রকৃতপক্ষে এমনিতেই পিএসসির ওপর বড় চাপ থাকে। ভালো লজিস্টিক সাপোর্ট তাদের প্রয়োজন হবে। তারাও এটি করতে একমত হয়েছে। আমাদের সাবেক সচিবও (ফয়েজ আহম্মদ) সেখানে (সদস্য হিসেবে) যোগ দিতে যাচ্ছেন।’

বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি) এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাদিক বলেন, ‘এটা করতে হলে কী কী করতে হবে সেই বিষয়ে ওয়ার্কআউট করে তা আমরা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। জনপ্রশাসন সেটি যাচাই-বাছাই করে পরবর্তীতে আমাদের জানাবে।’

About আমাদের বাণী

Check Also

গাজায় ইসরাইলের আগ্রাসন, নিহত বেড়ে ১৪৩

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় আজ শনিবার সকালেও বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। গাজা থেকে হামাসও ইসরায়েলে রকেট …